ওয়ার্ড প্রসেসিং কি? সঠিক নিয়মে কাজ শেখার পদ্বতি || Word processing 2021

2
769

ওয়ার্ড প্রসেসিং :

আমরা সকলেই জানি ছবি দেখা,লেখালেখি করা,গান শোনা,পড়াশোনা ইত্যাদি করার জন্য আমরা কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকি। কিনতু আমরা অনেকেই জানি না ওয়ার্ড প্রসেসিং কি এবং এটি কিভাবে ব্যবহার করতে হয়। আজকে আমরা ওয়ার্ড প্রসেসিং সম্পর্কে জানবো। আমরা কম্পিউটার ব্যবহার করে আমাদের প্রযুক্তিকে আরো সহজ করতে পারি। প্রযুক্তিকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের কম্পিউটার সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য জানতে হবে। আর কম্পিউটার সম্পর্কে জানতে হলে আপনাকে প্রথমেই ওয়ার্ড প্রসেসিং সম্পর্কে জানতে হবে।

বর্তমান সময়ে বহুল ব্যবহৃত কী-বোর্ড রয়েছে। তনমধ্যে ইংরেজী ও বাংলা কী-বোর্ড সম্পর্কে জানতে হবে।

বাংলা কী-বোর্ড :

ওয়ার্ড প্রসেসর দিয়ে কোন কিছু লিখতে গেলে প্রথমেই লাগবে একটি কী-বোর্ড।
কী-বোর্ড হলো ওয়ার্ড প্রসেসরের প্রধান ইনপুট ডিভাইস। ওয়ার্ড প্রসেসিং এ বাংলা লেখালেখি করতে হলে বাংলা কী-বোর্ড সম্পর্কে জানতে হবে। বাংলায় লেখালেখি করার জন্য বেশ কিছু সফটওয়্যার বাজারে আসে তার মধ্যে বিজয় সফটওয়্যার সেরা বলে জনপ্রিয়তা লাভ করে। তাই আমরা বাংলায় লেখার জন্য বিজয় সফটওয়ার ব্যবহার করি। বিভিনন কী-বোর্ড লে-আউট প্রচলিত হলেও বিজয় কী-বোর্ড লে-আউট সবচেয়ে এগিয়ে থাকে।

ওয়ার্ড প্রসেসরের বিজয় কী-বোর্ড চালু করতে Ctrl+Alt+B একসাথে চাপতে হবে।
প্রায় ২০০০ সালের পর থেকে বাড়তে থাকে ইনটারনেট ব্যবহার কারীর সংখ্যা। আর এজন্য আমাদের প্রয়োজন হয় বাংলা কী-বোর্ড।

ওয়ার্ড প্রসেসিং প্রোগ্রাম কীভাবে চালু করবেন :

প্রথমেই আমাদের যে কোন একটি ওয়ার্ড প্রসেসিং প্রোগ্রাম চালু করতে হবে। তারপর বাংলায় লেখার জন্য ওয়ার্ড প্রসেসর কে প্রস্তুত করতে হবে। প্রথমেই ওয়ার্ড প্রসেসরে বিজয় সফটওয়্যারে Ctrl+Alt+b একই সাথে চাপ দিন ও অভ্র সফটওয়্যারে F12 কী- চাপ দিন। তার পর আপনাকে একটি ফনট নির্বাচন করতে হবে। বিজয় সফটওয়্যারে Sutonny MJ এবং অভ্র সফটওয়্যারে Nikosh বা যে কোন ইউনিকোড ফনট নির্বাচন করতে হবে। এ আমাদের কম্পিউটারের ওয়ার্ড প্রসেসর বাংলা লেখা লেখি করার জন্য প্রস্তুত। এবার কী-বোর্ডের বিভিনন বাটন চেপে দেখুন কোথরয় কোনটি আছে।

অক্ষর গুলোর অবস্থান জানতে উপরে দেখানো কী-বোর্ড লেআউটের সাহায্য নিতে পার।
এবার লেখালেখি শুরু করবো ইনশাহআললাহ।

ডকুমেন্ট :

প্রথমেই এটি ডকুমেন্ট তৈরি করে সেভ করতে হবে। প্রথমে লেখালেখি করতে গেলে আমাদের ভুল হতেই পারে। এই ভুল গুলো আমরা ইডিটিং করে নিবো।যে প্রক্রিয়া অনুসরন করে আমাদের ভুল ঠিক করা হয় তাকে সম্পাদনা বলে। সম্পাদনায় সাধারণত যে কাজগুলো করা হয় সে গুলো নিচে দেখুন।

নির্বাচন করা :

অনেক সময় ডকুমেন্ট সম্পাদনার কাজে বিভিনন অক্ষর, শবদ,বাক্য বা কোন অংশকে নির্বাচন করতে হয়। নির্বাচন করার জন্য কারসরকে নির্ধারিত জায়গায় শুরুতে নিতে হবে। তারপর শিফট কী- চেপে ধরে ডান এ্যারো (Shift —->) কী- চেপে নির্ধারিত কোন অক্ষর, বাক্য বা কোন অংশকে নির্বাচন করতে হবে।

কাট (Cut) :

অনেক সময় ডকুমেন্টের কোন অক্ষর, শবদ,বাক্য বা কেনো অংশকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরাতে হয়। এজন্য প্রথমেই ঐ অক্ষর, সবদিক,বাক্য বা অংশকে নির্বাচন করে কাটার জন্য কী-বোর্ডের Ctrl এবং x কী একসাথে চাপতে হয়। (Ctrl+x)

কপি (Copy) :

অনেক সময় ডকুমেন্টের কোন অক্ষর, বাক্য বা কোন অংশের অনুলিপি বা কপি করে এক জায়গায় থেকে অন্য জায়গায় নিতে হয়। এজন্য প্রথমেই ঐ অক্ষর বাক্য বা অংশকে নির্বাচন করে কী-বোর্ডের Ctrl এবং c কী একসাথে চাপতে হয়। ( Ctrl+c)

পেস্ট (paste) :

পেস্ট শবদের আক্ষরিক অর্থ হল আঠা লাগানো বা যোরা লাগানো। কাট ও কপি করার পরের কাজ হলো নির্বাচিত অক্ষর শবদ বাক্য বা অংশকে নির্ধারিত সথানে পেস্ট করা। এজন্য কাট বা কপি কমান্ড ব্যবহার করার পর কারসরকে নির্ধারিত সথানে নিয়ে Ctrl এবং v কী একসাথে চাপতে হবে। ( Ctrl + v)

ডিলিট ( Delete) :

ডকুমেন্টের কোন অক্ষর, শবদ,বাক্য বা কোন অংশকে মুছে ফেলতে হলে কী-বোর্ডের Delete বা Del কী ব্যবহার করতে হবে। যা মুছে ফেলতে চাই প্রথমেই তা নির্বাচন করতে হবে। তারপর Delete বা Del বা Back space কী চাপলে নির্বাচিত অংশ মুছে যাবে।

ডকুমেন্ট ফর্মেট করা (Document formatted):

এবার ডকুমেন্ট তৈরি করা শেষ। এবার ডকুমেন্ট সাজাতে হবে।যাতে করে ডকুমেন্ট ভাল দেখায়। এ কাজকেই বলে ডকুমেন্ট ফরম্যাটিং। তা ছাড়া কাজ করতে করতে আপনারা অনেক কিছু জানতে পারবেন।

অক্ষর বা লেখার আকার ছোট বা বড় করা :

ডকুমেন্টের যে অংশের অক্ষর বা লেখার আকার পরিবর্তন করতে হবে প্রথমেই তা নির্বাচন করতে হবে।পরে যে কোন ওয়ার্ড প্রসেসরে টুলবার বা রিবনে ফনটের নামের পাশে যে সংখ্যাটি থাকে তা পরিবর্তন করতে হবে। আবার আকার বড় করতে হলে সংখ্যাটি বাড়াতে হবে এবং ছোট করতে হলে সংখাটি কমাতে হবে। কী-বোর্ড এর সাহায্য নিয়েও একাজ আমরা সহজেই করতে পারি।

অক্ষর বা লেখার আকার বোলড,ইটালিক বা আনডার লাইন করা :

ডকুমেন্টের যে অংশের অক্ষর বা লেখার আকার পরিবর্তন করতে হবে প্রথমেই তা নির্বাচন করতে হবে। তার পরে যে কোন ওয়ার্ড প্রসেসরে টুলবার বা রিবনে ফনটের নামের পাশে B,I,U থাকে তাতে মাউসে চাপ দিতে হবে। কী-বোর্ডের সাহায্যেও কাজটি সহজেই করা যায়।

ডকুমেন্টের এলাইনমেনট :

কোন ডকুমেন্টের প্যারাগ্রাফ মার্জিনের কোন দিকে মিশে থাকবে তা এলাইনমেনটের দ্বারা নির্ধারণ করা হয়।

মুদ্রণ পদ্মতি :

সব কাজ শেষ,এবার লেখাটির একটি কপি বের করবো। তার জন্য চাই,

কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত প্রিন্টার

প্রিন্টারের জন্য দরকারি সফটওয়্যার

উপযুকত সাইজের কাগজ

চেক করে দেখেন সব ঠিক আছে কিনা, ঠিক থাকলে প্রিন্ট আইকনে মাউসে চাপ দিন। এবার শুরু হবে মুদ্রনের কাজ।

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here